আমদানি রপ্তানি ব্যবসার গাইডলাইন | আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন জেনে নিন

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন সঠিকভাবে না জানলে কখনোই ভালো ফল পাবেন না। আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়ম না জেনেই হঠাত শুরু করলে আপনি শুরুতেই লসের মুখ দেখবেন। আপনাদেরকে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা সম্পর্কে জানানোর জন্যই আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন নিয়েই আজকে আমদের আর্টিকেল।
আমদানি রপ্তানি ব্যবসার গাইডলাইন। আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন। জানবো আমরা। janbo amra
আমদানি রপ্তানি ব্যবসার গাইডলাইন। আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন।

পোস্টসূচিপত্রঃ আমদানি রপ্তানি ব্যবসার গাইডলাইন | আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন 

ভূমিকাঃ
বিশ্বায়নের যুগে অভ্যন্তরীণ গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বেচাকেনায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশীরাও। বাংলাদেশে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা নানা ধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করে থাকে।

এ সম্পর্কে এস কে এফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম ফারুক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করে আসছি। আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়ম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা।


শুধু ঔষুধের ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রযোজ্য নয়, যেকোনো পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রণ হলো পণ্য রপ্তানির পূর্বশর্ত।তিনি আরো বলেন পণ্য যাতে ব্যবহারকারীর ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

ওষুধ ছাড়াও বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মান নিয়ন্ত্রণ ও দামের দিক থেকে বাংলাদেশী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। তাই এক হাতে বিনিয়োগ করে আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় যোগ দিতে পারেন আপনিও। আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন মেনে অবশ্যই শুরু করবেন।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন এবং সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র :

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী কিছু কিছু পণ্যের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশেও বৈদেশিক পণ্যের চাহিদা ও ঘাটতি থাকায় আমদানি রপ্তানি ব্যবসা খাতে অনেক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কথিকা ট্রেড এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশফিকুল আলম বলেন, পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের এ প্রতিষ্ঠান দেশের অন্যতম।

আগে আমরা বিভিন্ন ধরনের পণ্য যেমনঃ হস্তশিল্প, চামড়াজাত দ্রব্য, পোশাক শিল্প, অডিও সিডি, পোল্ট্রি খাদ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী নিয়ে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করেছি। কিন্তু বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অন্যান্য পণ্যের চেয়ে পাটজাত পণ্যের কদর বেড়েছে। তাই পাট জাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা জোর দিয়েছি।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা এটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ।প্রতিনিয়ত এ খাতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং রকমারি পণ্য সামগ্রী রপ্তানির আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আমাদের পণ্য উন্নয়ন বিভাগ নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দিয়ে থাকে।

এছাড়া এখানে নতুনদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে গ্রন্থাগারের সুবিধা উল্লেখযোগ্য। গ্রন্থাকারে বিভিন্ন ধরনের আমদানি রপ্তানি ব্যবসা বিষয়ক পত্রিকা, বই এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।

যে কেউ ইচ্ছা করলে এখানে এসে আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন বিষয়ক যাবতীয় বিষয় পড়তে পারে। এছাড়াও বিশ্বের কোন কোন দেশে কি ধরনের পণ্যের চাহিদা রয়েছে এবং বিশ্বের সামগ্রিক মানচিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মেলা বিভাগ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেলার আয়োজন করে থাকে। যে কেউ ওই মেলায় অংশ নিতে চাইলে তথ্য বিভাগ তাদের সহযোগিতা করে থাকে।

এছাড়াও এখানে আগ্রহীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং একটি আমদানি রপ্তানি ব্যবসা বিষয়ক তহবিল রয়েছে। এ তহবিল থেকে বিভিন্ন রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়।

কিভাবে শুরু করবেন আমদানি রপ্তানি ব্যবসা

এ ব্যবসায় যে কেউ সহজে বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রথমত, থাকতে হবে সরকারি অনুমোদন এবং একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। একটি নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে সর্বপ্রথম থাকতে হবে ট্রেড লাইসেন্স এবং আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসা নিবন্ধন সনদ (আইআরসি এবং ইআরসি )।

ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে সিটি কর্পোরেশন থেকে, আইআরসি ইআরসি সনদ নিতে হবে প্রধান আমদানি রপ্তানি ব্যবসা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে। এছাড়া পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অথবা চেম্বার অব কমার্সের অনুমোদন থাকতে হবে।

তারপর পণ্য রপ্তানির সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক কিছু অনুমোদন থাকাটা অনেক জরুরী। সেগুলো হলো সার্কভুক্ত দেশের ক্ষেত্রে সাপটা ও সাফটা সনদ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে জিএসটিপি সনদ ও সিও সনদ এবং কোরিয়ার জন্য কেপিটি সনদ উল্লেখযোগ্য।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন এবং ব্যাংকের কার্যাবলী

আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে হলে ব্যাংকের হিসাব খোলা একটি প্রাথমিক কাজ। ব্যাংক হিসাব খুলতে ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হবে। ব্যাংক স্বচ্ছলতার পরিচয়স্বরূপ একটি সনদ দেবে, যাতে এই ব্যবসায় স্বীকৃতির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আমদানি রপ্তানি ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য ঋণ পেয়ে থাকেন।ঋণ প্রাপ্তির বিষয় সম্পর্কে ক্যাজুয়াল ফ্যাশনস লিমিটেডের এক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম জানান, প্রায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক আমদানি রপ্তানি ব্যবসা খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ প্রদান করে থাকে।

তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা পোহাতে হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণত ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। তাই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ দিয়ে এ খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে।

কি ধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানি করবেন

পণ্য আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে পণ্য নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কি ধরনের পণ্য কোন দেশে পাঠাবেন এবং ওই দেশে ওই পণ্যের চাহিদা কেমন সে বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে। যেমন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পাট জাত পণ্য ও ফুলের খুব কদর রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে বাংলাদেশি পোশাকের অনেক চাহিদা আছে। এমন বিষয় সম্পর্কে সার্বিক ধারণা রেখে পণ্য বাছাই করা উচিত। 
বাংলাদেশে আমদানিজাত অনেক পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেঃ
  •  নির্মাণ সামগ্রী
  •  শিল্প কারখানার কাঁচামাল
  •  যন্ত্রপাতি
  •  পরিবহন সামগ্রী
  •  টেলিভিশন
  •  এয়ারকন্ডিশন
  •  ওভেন
  •  রেফ্রিজারেটর বিভিন্ন গৃহসামগ্রী
  •  খনিজ তেল
  •  ভোজ্য তেল
  •  চর্বি
  •  রাসায়নিক দ্রব্য
  •  ওষুধ
  •  খাদ্যশস্য
  •  শিশুখাদ্য
  •  পানীয় দ্রব্য ইত্যাদি। 
আর রপ্তানিজাত পণ্যের  মধ্যে রয়েছেঃ
  •  তৈরি পোশাক
  •  ওষুধ
  •  পাট
  •  চা
  •  চামড়া
  •  তামাক
  •  পাটজাত দ্রব্য
  •  হস্তশিল্প
  •  কুটির শিল্প
  •  রকমারি ফুল ইত্যাদি।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে যোগাযোগ দক্ষতা

যোগাযোগ দক্ষতা আমদানি রপ্তানির ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি জরুরী বিষয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে এবং বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে।

এসব প্রতিষ্ঠানে যারা কর্মরত আছেন, তাদের সঙ্গে একটা ভালো যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্যে কাজ করে দেয়ার প্রবণতা থাকলে এ খাতে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করে দিতে হবে এবং নিজেকে বিশ্বস্ত হিসেবে প্রমাণ করতে হবে।সাধারণত দুই মাধ্যমে আমদানি রপ্তানি ব্যবসার কাজ করা হয়। নৌ ও আকাশপথ। তবে ভালো মানের ও বেশি পরিমাণে পণ্য পাঠাতে চাইলে মালবাহী সমুদ্রগামী জাহাজে পাঠানো ভালো।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা

আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় ইংরেজি ভাষায় অনেক গুরুত্ব রয়েছে - জানালেন রপ্তানি উন্নয়ন বুড়োর এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বেচাকেনার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার কোন বিকল্প নেই। পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতে হয়।


সেক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হলে অনেকাংশে সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়া ফরাসি, স্প্যানিশ, মান্দারিন, জাপানিজ, জার্মান ভাষা জানা থাকলে আরো ভালো। কারণ ওই দেশগুলো বাংলাদেশে কোন আমদানির রপ্তানি ব্যবসাতে বেশি ভূমিকা রাখছে।

প্রতিষ্ঠানের অবস্থান

ব্যবসায় নামতে হলে প্রতিষ্ঠানকে আমদানি রপ্তানি ব্যবসার উপযোগী করে স্থান নির্ধারণ করতে হবে। আমদানি রপ্তানি ব্যবসার জন্য সমুদ্রবন্দর বা স্থলবন্দর এলাকা বাছাই করতে পারেন। এতে কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। দুটি পথে বিভিন্ন ধরনের লোক নিয়োগ করতে পারেন।

একটি কাস্টমসকেন্দ্রিক, অন্যটি সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরকেন্দ্রিক। এ ব্যবসায় দ্রুততার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরী। সময়মতো রপ্তানি পণ্য পাঠানো এবং আমদানি পণ্য বন্দর থেকে খালাস করতে হবে।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে সহযোগী প্রতিষ্ঠান

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ব্যাপারে যেসব প্রতিষ্ঠান আপনাকে সহযোগিতা প্রদান করতে করে থাকে তা হলোঃ
  •  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
  • রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো
  • বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো
  • আমদানি রপ্তানি ব্যবসা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর
  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
  • সাধারণ বীমা কর্পোরেশন
  • বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ
  • বাংলাদেশ ব্যাংক
  • অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক
  • বাংলাদেশ বিমান
  • বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
  • বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন
  • বিদেশি জাহাজ কোম্পানিগুলোর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট (সি এন্ড এফ এজেন্ট )
  • শিল্প ও বণিক সমিতি 
  • এবং হটেক্স ফাউন্ডেশন অন্যতম। 

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি 

প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি এ ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ছড়াতে চাইলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এছাড়া বিলবোর্ড ও প্রচার পত্রের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি বৃদ্ধি করতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পারলে যেকোন ক্রেতা আপনাকে খুঁজে নিবে।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুনের মধ্যে বর্জনীয় দিক 

কোন অবস্থাতেই বিদেশি বা বেশি ক্রেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা যাবে না। কেননা, তা আপনার দেশের খাতি ও ব্যক্তিগতভাবে আপনার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট হতে পারে। গৃহীত নমুনা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের সময় পণ্যের মান সংরক্ষণে উদাসীন হবেন না।

ব্যবসায়িক লেনদেনে আপনার একান্ত গোপন তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করবেন না। ব্যবসায়ীক জ্ঞানার্জনে কোন ব্যক্তির বা সংস্থা সদুপদেশ উপেক্ষা করবেন না। ব্যবসা পরিচালনায় দেশের প্রচলিত আইন অমান্য, উপেক্ষা কিংবা অপপ্রয়োগ করবেন না।

ব্যবসায়ে সাময়িক ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগের স্বার্থে ভারসাম্যহীন দর প্রদান করে ব্যবসায়িক নৈতিকতা খর্ব করবেন না। ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমণকালে ক্রেতাদের সঙ্গে এমন কোন আচরণ করবেন না, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে।

ব্যবসায়িক লেনদেনে এমন কোন উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেবেন না, যা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়। কোন অবস্থাতেই দুর্নীতির আশ্রয় নেবেন না। কারণ, সর্বশেষ বিশেষণে তা আপনার এবং দেশের মঙ্গল সাধন করে না।

ফিশ;আইআরসি এবং ইআরসি জারি  

বর্তমানে একজন আমদানিকারক আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র (আইআরসি) ও রপ্তানি কারক রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র (ইআরসি) এর মাধ্যমে যেকোন আমদানি রপ্তানি ব্যবসাযোগ্য পণ্য যে কোন পরিমাণ নির্বিশেষে আমদানি ও রপ্তানি করতে পারে।

এক্ষেত্রে কোনো সংস্থা বা বিভাগের কোনরূপ অনুমতির প্রয়োজন হয় না। আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র জারির পদ্ধতি সহজ এবং স্বচ্ছ।

আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র জারির ক্ষেত্রে নিচে বর্ণিত কাগজ প্রয়োজন 

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • চেম্বার অথবা স্বীকৃত ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ সদস্যতা সনদপত্র
  • টিআইএন
  • ব্যাংক প্রত্যয়নপত্র
  • লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার
  • জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কর্তৃক অনুমোদিত সংঘ স্মারক ও সংঘবিধি
  • সার্টিফিকেট অফ ইনকর্পোরেশন। 
উল্লেখিত কাগজ দাখিল করলে তিন ঘন্টার মধ্যে অর্থাৎ একই দিনে আমদানি রপ্তানি ব্যবসার সনদ জারি করা হয়। আমদানিকাররা বার্ষিক মোট আমদানি মূল্যসীমার ভিত্তিতে ছয়টি শ্রেণীতে শ্রেণিভুক্ত এবং আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র জারির ক্ষেত্রে নিচের হারে ফিস প্রদান করতে হয়।

কিছু ব্যবসায়িক আইডিয়া 

চিন্তার খোরাক হিসেবে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা শুরু করার আগে বাজারে কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা এখন বেশি সেটি যাচাই করতে হবে। 

ধরুন, হঠাৎ খেয়াল করলেন দেশে কফি মেশিনের চাহিদা বেড়ে গেছে বা চীন থেকে অটো বাইকের ভালো ব্যবসা হচ্ছে। তখন আপনি এসব পণ্য দেশে নিয়ে আসতে পারলে ভালো লাভবান হতে পারেন।  নিম্নবর্ণিত খুব ছোট পণ্যগুলো আনতে পারেন যেমনঃ
  • মেমোরি কার্ড
  • মোবাইলের ব্যাক কভার
  • পার্স
  • মানিব্যাগ
  •  ব্লুটুথ স্পিকার
  • পাওয়ার ব্যাংক
  • হাতঘড়ি
  • স্মার্ট ওয়াচ
  • পোর্টেবল ফ্যান
  • লাইট
  • এলইডি লাইট
  • সিসি ক্যামেরাসহ নানা গ্যাজেট নিয়ে আসতে পারেন। 

কেমন বাজেট হওয়া উচিত

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করার জন্য অবস্থাভেদে বাজেট নির্ধারণ করতে হয়। এসব পণ্যের ব্যবসা শুরু করতে প্রাথমিক অবস্থায় এক থেকে ৫ লাখ টাকা বাজেটে শুরু করা যায়। পরে ব্যবসা ভালো হলে বিনিয়োগ বাড়িয়ে বা পার্টনার নিয়ে ব্যবসার পরিসর বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তবে কেউ যদি বড় পরিসরে কোটি টাকার ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেন তবে সেটাও করা যেতে পারে। আমদানি রপ্তানি ব্যবসা বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যত গুড় তত মিষ্টি। 

কোথায় যোগাযোগ করবেন

অনেকেই চিন্তা করতে পারেন চীনের সঙ্গেযোগাযোগ করব কিভাবে, পেমেন্ট দেবো কিভাবে, পন্যের মূল্য জানা, সেটি সঠিক চ্যানেলে পণ্য নিয়ে আসা, এলসি করাসহ বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। 
এসব জটিলতার কারণে অনেকে আমদানি রপ্তানি ব্যবস্থা করতে ভয় পান।

 তাই যারা আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করছেন অথবা শুরু করতে চাচ্ছেন আবার যারা সঠিক গাইডলাইন পাচ্ছেন না অথবা পুঁজি  স্বল্প বলে ব্যবসাটি করার সাহস পাচ্ছেন না। তাদের জন্যই কাজ করছে চিন বাংলাদেশের যৌথ প্রতিষ্ঠান ডোরপিং ডট কম।

 বাংলাদেশে বসে চীনের ব্যবসা করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন doorping এই ঠিকানায়। 

পরিশেষেঃ

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার নিয়মকানুন সম্পর্কে আশাকরি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। কোন মন্তব্য থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে লিখবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জানবো আমরা ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url