এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় - কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে

এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় এবং কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে এই বিষয়গুলো নিয়েই আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। এজেন্ট ব্যাংকিং করতে চাইলে আপনাকে ভালোভাবে জানতে হবে কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে বা এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয়।
এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয়। কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে। জানবো আমরা। janbo amra
এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয়। কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে।

সূচিপত্রঃ এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় - কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে

ভূমিকাঃ

বর্তমানে দিন দিন মানুষ ব্যাংকিং সেক্টরে গ্রাহক এত বেশি যে ব্যাংকগুলো হিমশিম খাচ্ছে। আবার প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে নতুন ব্যাংক। আর এসব ব্যাংকের একটি শাখার নাম হলো এজেন্ট ব্যাংকিং। এখানে এজেন্ট ব্যাংকিং এর সকল তথ্য ও নীতিমালা সহ ব্যবসার আইডিয়া তুলে ধরব।

এছাড়াও এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় এবং কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে এগুলো জানার মাধ্যমে সহজেই এজেন্ট ব্যাংকিং এর খুঁটিনাটি জানতে পারবেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং কি?

এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় জানার আগে এজেন্ট ব্যাংকিং কি তা জেনে নেই। এজেন্ট ব্যাংকিং হলো এমন একটি ব্যাংকিং সেবা যা কোন নির্দিষ্ট ব্যাংকের ব্রাঞ্চের আওতায় গ্রাহকের দ্বারপ্রান্তে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়। এজেন্ট ব্যাংকিং এর কাজ চলে মূল ব্রাঞ্চের অধীনে থেকে। তবে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠান কখনো মূল ব্রাঞ্চ হয় না।

মোটকথা এজেন্ট ব্যাংকিং এমন একটি সেবামূলক ব্রাঞ্চ যা থেকে মানুষের মাঝে খুব সহজে ও সঠিক পদ্ধতিতে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়া হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং কি জানলাম আমরা আস্তে আস্তে জানবো কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে।

কবে থেকে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয়?

কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে জানার আগে কবে থেকে চালু হয়ছে জেনে নেই। বাংলাদেশে ডিসেম্বর ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়। এরপর ২০১৪ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হয়।

বাংলাদেশে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। তারা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইসলাম শেখকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ব্যাংক এশিয়ার প্রথম এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এজেন্ট ব্যাংকিং কি কি সেবা দেয়?

এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় জানার জন্য আমরা আগে জেনে নিব কি কি সেবা দেয়। একটি ব্যাংকের শাখা যেরকম সেবা প্রদান করে থাকে, একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাও তেমনিই সেবা দিয়ে থাকে। তবে পার্থক্য হয় কিছুটা সময়ের ক্ষেত্রে।

ব্যাংকের কোন শাখায় যে কাজটি করতে একদিন সময় লাগে সে কাজটি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে করলে হয়তো দুই থেকে তিন দিন লাগতে পারে। তবে বর্তমানে এই সমস্যাটি ও সমাধান করছে অনেক ব্যাংক।

এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় যে সকল সেবা পাওয়া যায়

একাউন্ট খোলা, দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্প মেয়াদী আমনত সংগ্রহ করা, ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড প্রদান করা, চেক প্রদান করা, টাকা জমা দেয়া, টাকা উত্তোলন করা, ফান্ড ট্রান্সফার করা, অ্যাকাউন্টের তথ্য জানা, ঋণের আবেদন জমা নেয়া, সরকারি ও প্রবাসী সকল ব্যাংকিং সুবিধাসহ প্রায় সব ধরনের ব্যাংকের সেবা প্রদান করা।

কারা ব্যাংকিং এজেন্ট হতে পারবেন? 

এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় জানার আগে আপনাকে জানতে হবে কারা এজেন্ট হতে পারবেন। যেকোনো ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার এজেন্ট হতে পারবেন যারাঃ

  •  কোম্পানি আইনের আওতায় অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান
  •  আইটিমূলক সেবা প্রদান করতে পারে এমন প্রতিষ্ঠান
  •  স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অফিসসমূহ
  •  এম আর এর অধীনে অনুমোদন পাওয়া সকল এনজিও
  •  ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র
  •  ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল কুরিয়ার সার্ভিস
  •  কো-অপারেটিভ সোসাইটির অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠান
  •  মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিনিধি
  •  গ্যাস ও পেট্রোল পাম্পের মালিক
  •  বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি ও ফার্মেসির মালিকগণ যেকোনো ব্যাংকের এজেন্ট হতে পারবেন।  

কারা এজেন্ট ব্যাংকিং এর আওতায় আসবে না

কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে জানার জন্য আগে জানুন কারা এই ব্যাংকিং এর আওতায় আসবে না। আপনার মধ্যে নিচের লেখাগুলোর যদি কোন কিছু থেকে থাকে তাহলে আপনি কোন ব্যাংকের এজেন্ট হতে পারবেন না। 

  • আপনার যদি কোন ফৌজদারি মামলার আসামি হোন তাহলে এজেন্ট হতে পারবেন না। 
  • এছাড়াও আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যাক্তি 
  • আপনার সাজা যদি হয় তিন বছরের জেল
  • আপনি যদি মানি লন্ডারিং করেন
  • কোন সন্ত্রাসী কাজে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি হন
  • আপনার যদি খেলাপি ঋণ  থাকে
  • আপনি যদি কোন সময় আদালতের মাধ্যমে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন
  • আপনি যদি অন্য ব্যাংকের বিদ্যমান ব্যক্তি বা আপনি ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হন 

উপোরোক্ত কারণ গুলোর জন্য আপনি এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট হতে পারবেন না। চলুন এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় জানার আগে এজেন্ট ব্যাংকিং দক্ষতা সম্পর্কে জেনে নেই। 

এজেন্ট ব্যাংকিং দক্ষতা

আপনাকে একটি ব্যাংকের এজেন্ট হতে হলে আপনাকে কিছু দক্ষতা রাখতে হবে। তা না হলে আপনি যদি অন্যের ওপর দক্ষতায় নির্ভর করেন তাহলে আপনি যেকোনো সময়ে বিভিন্ন রকম সমস্যায় পড়তে পারেন। এজেন্ট ব্যাংকিং এর জন্য আপনাকে কম্পিউটার চালাতে পারদর্শিতা হতে হবে।

এছাড়া মাইক্রোসফট অফিস, মাইক্রোসফট এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ও ইন্টারনেটের কাজ ভালোভাবে জানতে হবে। ব্যাংকের এজেন্টরা সাধারণত পয়েন্ট অব সেল (পি ও এস) কার্ড রিডার, মোবাইল ফোন, বারকোড স্ক্যানার, পিন প্যাড ইত্যাদির সাহায্যে কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে।

তাই এগুলোতেও আপনাকে হতে হবে পারদর্শী। কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে জানার আগে আমরা এর দক্ষতা সম্পর্কে জেনে নিলাম।

এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা 

 আবেদন করার পর যদি ব্যাংক আপনার সবকিছু দেখে তারা সন্তুষ্ট হয়। তাহলে তারা তাদের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী তারা এজেন্ট হওয়ার নিয়োগ পত্র দিয়ে দিবে। 

এজেন্ট ব্যাংকিং চুক্তি বাতিল

এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় এবং কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে জানার পূর্বে চুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে। এজেন্ট ব্যাংকিং এ আপনার নানা কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যেতে পারে। চুক্তি বাতিলে বেশ কিছু জায়গায় এজেন্ট কর্তৃক চুক্তি বাতিল হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চুক্তি বাতিলের কারণঃ

  • যদি কোন এজেন্ট তার সব সেবা বন্ধ করে দেয়  
  • ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া মালিকানা হস্তান্তর অথবা ঠিকানা হস্তান্তর করলে
  • যেকোন আদালত কর্তৃক এজেন্ট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে
  •  এজেন্ট ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হলে এবং তা তিন মাসের মধ্যে চালু না করলে
  •  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অমান্য করলে এবং এজেন্ট হতে পারবেনা এমন ব্যাক্তিকে আংশিক মালিকানা হস্তান্তর বা শেয়ার করলে।

এজেন্ট ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ

এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় নিশ্চয় আস্তে আস্তে বুঝতে পারছেন।নিচে আমরা আরো বিস্তারিত জানবো এবং কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে সেগুলোও জানবো।

আপনি যদি কোন ব্যাংকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান তাহলে আপনাকে ওই ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ থেকে সাত দিন প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কোন ব্যাংক তার থেকে কম সময় নেয় আবার কোন ব্যাংক বেশি সময় নেয়। এটা সম্পূর্ণ ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর লক্ষ্য

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লক্ষ হচ্ছে সে প্রত্যেক মানুষকে ব্যাংকের আওতায় নিয়ে আসা এবং মানুষের সকল সেবা প্রদানের জন্য তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছা। বর্তমানে অনেক ব্যাংক তাদের শাখা পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। গ্রাহক এত বেশি যে তারা সময় দিতে পারছে না। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও এজেন্ট ব্যাংকিং এর ভূমিকা অনেক।

এছাড়া যেসব এলাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা নেই সেসব এলাকার সুবিধা বঞ্চিতদের ব্যাংকের সেবা প্রদান, চর এলাকা, প্রত্যন্ত অঞ্চল, দ্বীপসহ যেখানে ইলেকট্রিক সুবিধা নেই সেই সকল এলাকায় ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছে যেমন,স্কুল, পথশিশু, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাঝে সব সেবা পৌঁছে দেয়া।

কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে | এজেন্ট ব্যাংকিং এর ব্যাংক ও গ্রাহক সংখ্যা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২২ টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর লাইসেন্স পেয়েছেন। ব্যাংকগুলো হলোঃ

  • ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড 
  • ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড
  • দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড
  • আল আরাফাহ ইসলামী লিমিটেড
  • ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
  • মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড
  • মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড 
  • এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
  • অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড 
  • ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড 
  • মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড 
  • প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড 
  • ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
  • এবি ব্যাংক লিমিটেড
  • এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড 
  • ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড
  • ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড 
এসব ব্যাংকের রয়েছে লাখ লাখ গ্রাহক। এজেন্ট ব্যাংকিং এর সব থেকে ভালো প্রভাব পড়েছে গ্রাম অঞ্চলে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ গ্রাহক ছোট ব্যবসায়ী, ১৮ শতাংশ রয়েছে গৃহিণী, ৩ শতাংশ রয়েছে দিনমজুর, ৭ শতাংশ রয়েছে কৃষক।

এছাড়া বি আই বি এম এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এজেন্ট ব্যাংকিং এর ১৫% গ্রাহক সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও 7% গ্রাহক শিক্ষার্থী। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সংখ্যা প্রায় ৬ গুণ বেশি।

তাছাড়া গত বছরের মার্চের পর ছয়টি ব্যাংক গ্রাহকদের ১২২ কোটি টাকা ঋণ ও দিয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রেমিট্যান্স সেবা দেয়ার ক্ষেত্রেও এজেন্ট ব্যাংকিং খুব ভালো করছে। গত বছরে সব ব্যাংক থেকে ৪ হাজার ৯ শত ৫ টি আউটলেটে ২৬৭৪ কোটি টাকা রেমিটেন্স প্রদান করা হয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা

আপনি যদি কোন এজেন্ট ব্যাংকের এজেন্ট হন তাহলে আপনাকে খুব কম জামানতে এজেন্ট হওয়ার সুযোগ করে দিবে। এছাড়া আপনার জায়গা লাগবে কম এবং আপনার লোকবলও কম হলে চলবে। 

এজেন্ট ব্যাংকের খরচ কত

কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে জানলাম এইবার জানবো খরচ কত। এজেন্ট ব্যাংক করতে গেলে আপনাকে তেমন বা বেশি পুঁজি নিয়ে নামতেও হবে না। টাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দেখবে।

তারপরেও একটি এজেন্ট ব্যাংকের অফিস দিলে আপনি যদি সুন্দর করে অফিস ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেন তাহলে এক লাখ টাকার মধ্যে করতে পারবেন। তাছাড়া আসবাব ও কম্পিউটার সহ প্রতিমাসের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারী ও ঘর ভাড়া সহ মাসে খরচ হতে পারে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

তবে আপনার চাহিদার উপর খরচ বাড়তে পারে বা কমতে পারে। এছাড়া আপনার ওখানে একজন ব্যাংক প্রতিনিধি থাকতে পারে, তার সকল খরচ ব্যাংক বহন করবে।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর লাভের উৎস 

এজেন্ট ব্যাংকিং মানে আপনি ব্যাংকের একজন কমিশন এজেন্ট। বিভিন্ন ব্যাংক বিভিন্ন রকম কমিশন প্রদান করেন।গ্রাহকের ডিপোজিট থেকে ২-৩ শতাংশ কমিশন পাবেন।

এছাড়া কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, ডিপোজিট, ফিক্সড ডিপোজিট, ফরেন রেমিটেন্স অ্যাকাউন্ট বোনাস, এটিএম কার্ড ইস্যু, চেক বই ইসু, ইউটিলিটি বিল, বিদ্যুৎ বিল, পাসপোর্ট ফি জমা নেয়া, লোন প্রদান করলে ১% কমিশনসহ আরো নানা রকম কাজে কমিশনের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লোকসান

এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে কত কিছুই করলেন, এবার আপনার লাভের পালা। তবে আগে লোকসান করুন। সর্বনিম্ন এক বছর আপনি কোন লাভের মুখ দেখতে পারবেন না। বাবার হোটেলে খেয়ে আপনাকে ব্যাংকিং চালিয়ে যেতে হবে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লাভ

আপনি যে ব্যাংক থেকেই এজেন্সি নেন না কেন ব্যাংকটি কিন্তু এখন আপনার। যখন আপনার ব্যাংকিং পুরোপুরি দাঁড়িয়ে যাবে। তখন আপনার আয় অনেক ভালো হবে।

মোটামুটি আপনার ব্যাংকে সেভিং অ্যাকাউন্টের পরিমাণ যদি পাঁচ কোটি টাকার উপরে হয় তাহলে আপনার প্রতি মাসে সে একাউন্ট থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা অনায়াসে লাভ করতে পারবেন।

পরিশেষেঃ

আজকের আর্টিকেলের বিষয় ছিল এজেন্ট ব্যাংকিং কিভাবে নিতে হয় এবং কোন কোন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আছে । আশা করি আপনারা এজেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কে প্রায় সকল প্রশ্নের উত্তরই পেয়েছেন। আপনাদের কোন মন্তব্য থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে লিখবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জানবো আমরা ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url