এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় - এক্সারসাইজের উপকারিতা

এক্সারসাইজ করার আগে আপনাদের অবশ্যই এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় নির্ধারণ করতে হবে।সঠিক সময়ে এক্সারসাইজ করলে আপনার শরীর, মন সুস্থ এবং ফিট থাকবে। এক্সারসাইজের উপকারিতা শতভাগ পেতে হলে এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় - এক্সারসাইজের উপকারিতা - এক্সারসাইজ করার নিয়ম। জানবো আমরা। janbo amra
এক্সারসাইজ করার সঠিক সময়, উপকারিতা এবং এক্সারসাইজ করার নিয়ম

সূচিপত্রঃ এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় - এক্সারসাইজের উপকারিতা

ভূমিকাঃ
অসময়ে এক্সারসাইজ করার ফলে আপনার শরীরে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত যদি আপনি এক্সারসাইজ করেন তাহলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তাহলে চলুন এক্সারসাইজ করার নিয়মানু্যায়ী কোন সময়ে এক্সারসাইজ করলে এক্সারসাইজের উপকারিতা শতভাগ পাওয়া যাবে সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা করা যাক।

এক্সারসাইজ (exercise)কি?

এক্সারসাইজ (exercise) অর্থাৎ শারীরিক ব্যায়াম বা শরীরচর্চা হলো শরীরের যেকোনো অঙ্গের রক্ত চলাচল বৃদ্ধির জন্য যেকোনো শারীরিক কার্যক্রম। শারীরিক কার্যক্রম বলতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত আন্দোলন কে বোঝায়।

এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম সাধারণত শারীরিক ফিটনেস, শরীরের সুস্থতা, অতিরিক্ত ওজন হ্রাস, যে কোন খেলাধুলায় দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্য করা হয়। এক্সারসাইজের সঠিক নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে এক্সারসাইজ করা হলে শরীরের বিভিন্ন উপকার হয়।

যেমন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করা সম্ভব হয়, শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়, মানসিক অবসাদ দূর হয়, যেকোনো কাজ স্থির চিত্তে করা যায়। নিয়মিত হাঁটাচলা করা এক্সারসাইজের উৎকৃষ্ট একটি উদাহরণ।

এক্সারসাইজ করার নিয়ম

এক্সারসাইজ করা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকে সুস্থ এবং ফিট রাখার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী এক্সারসাইজ করতে হবে। সঠিক নিয়ম অনুযায়ী এক্সারসাইজ না করা হলে আপনার উপকারের চাইতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আসুন জেনে নেওয়া যাক এক্সারসাইজ করার নিয়মকানুন।
  • যেকোনো নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় নির্ধারণ করুন।
  • আপনি কেন এক্সারসাইজ করবেন সেটা আগে আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে যেমনঃ ওজন কমানো, বডি বিল্ডিং, ফিটনেস প্রভৃতি কারণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে এক্সারসাইজ করতে হয়। যা আপনাকে অভিজ্ঞ জিম ট্রেইনার বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।
  • টাইট জামা কাপড় পড়ে ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করলে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। এজন্য সব সময় ঢিলেঢালা জামা কাপড় পড়ে এক্সারসাইজ করবেন।
  • বয়স ও শরীরের গঠন অনুযায়ী বিভিন্ন এক্সারসাইজ নির্ধারণ করুন।
  • ভারী ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করার পূর্বে অবশ্যই ওয়ার্মআপ করে নিন। ওয়ার্মআপ বলতে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি বোঝায়। ওয়ার্মআপ করার জন্য ধীরে ধীরে হাঁটুন এরপর আস্তে আস্তে স্পিড বাড়ান এবং শরীর না ঘামা পর্যন্ত হালকা ব্যায়াম করতে থাকুন। শরীর যখন ঘামতে থাকবে তখন যেকোন ধরনের ব্যায়াম করুন আর কোন সমস্যা হবে না।
  • ভরা পেটে অবশ্যই ব্যায়াম করবেন না। খালি পেটে এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করুন এতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবেন।
  • বায়াম বা এক্সারসাইজ করার সময় যখন থামবেন অথবা ব্যায়াম করার মাঝে মাঝে নিশ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এতে আপনার শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে।
  • এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করার সময় শরীরে খারাপ লাগলে বন্ধ করে দিন।
  • ঘুমানোর ৪ ঘন্টা আগে পর্যন্ত অবশ্যই ব্যায়াম করবেন না। যদি করতে হয় সেইক্ষেত্রে হালকা যোগব্যায়াম করুন।
  • অতিরিক্ত বা বেশি সময় ধরে এবং এক্সারসাইজ করার নিয়ম এর বাইরে এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করবেন না। এতে আপনার উপকারের চাইতে ক্ষতি বেশি হবে।

ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করার সঠিক সময়

সব বয়সের মানুষের এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ মানুষই ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় সম্পর্কে জানেনা। সঠিক সময় এ এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করলে আপনার অনেক উপকারে আসবে। তাহলে চলুন ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করি।
সকালবেলা 
  • সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনি এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করতে পারেন। এতে আপনার শরীর ও মন দুটোই সতেজ ও ফুরফুরে থাকবে।
  • ঘুম থেকে উঠেই কখনো ভারী ব্যায়াম করতে যাবেন না। এসময় আপনি ঘুম থেকে উঠে বিছানাতেই যোগব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়াও মর্নিং ওয়ার্ক, জগিং ইত্যাদি হাল্কা এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করতে পারেন।
  • ভারী ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করবেন এবং এক দেড় ঘন্টা পর ভারী এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করবেন।
  • যদি আপনি প্রতিদিন ভোরবেলায় এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করে থাকেন সেইক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি তাড়াতাড়ি ঘুমাবেন। সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমিয়ে ব্যায়াম করতে যাবেন। কখনো যদি ঘুমোতে দেরি হয় সেক্ষেত্রে আগের নির্দিষ্ট টাইম এই ব্যায়াম করতে যাবেন না। এতে শরীরের উপর অনেক চাপ পড়ে যাবে। পরিমাণ মতো ঘুমিয়ে তারপর ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করুন।
আরো পড়ুনঃ শীতে ত্বক ও চুলের যত্ন নিবেন যেভাবে।
বিকেলবেলা এবং সন্ধ্যাবেলা 
  • বিকেলবেলা এবং সন্ধ্যাবেলা এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করার জন্য সবথেকে আদর্শ সময় কারণ এই সময়ে শরীরের কর্মক্ষমতা সবথেকে বেশি থাকে।
  • দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এই সময়ের মধ্যে এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করলে সব থেকে ভালো ফল পাবেন। এই সময়ে আপনার শরীরের নমনীয়তা এবং শরীরে শক্তি যথেষ্ট থাকে।
  • দুপুরবেলা বা বেশি গরমে ব্যায়াম করলে আপনি সহজেই ক্লান্ত হয়ে যাবেন। এই জন্য দুপুর বেলা আপনার জন্য ব্যায়াম না করাই ভালো হবে।
  • বিকেল এবং সন্ধ্যা বেলায় এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করুন এতে আাপনার শরীর উষ্ণ হতে বেশি সময় লাগবে না।
  • বিকেল বেলায় আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের উপস্থিতি বেশি থাকে। এইজন্য এই সময়ে এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করলে পেশি গঠনের জন্য হরমোনটি বেশি উৎপাদন হবে এবং খুব দ্রুত পেশি গঠন হবে।
  • বিকেল এবং সন্ধ্যা বেলায় ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করা হলে আপনার মানসিক চাপ উপশম হবে। এই সময়ে এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করার ফলে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নির্গত হয়। যা আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দিবে এবং রাতে ঘুমাতে সাহায্য করবে।
  • সন্ধ্যেবেলায় সাধারণত যোগব্যায়াম করা ভালো। সন্ধ্যায় এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করার পর ১৫ মিনিট মেডিটেশন করুন এতে আপনার মন স্থির হবে।
  • সন্ধ্যেবেলায় আপনি ভারী ব্যায়াম গুলো করবেন না। এতে ঘুমের সমস্যা হবে। 
ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি সঠিক সময়ে এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম না করেন তাহলে উপকারের চাইতে অপকার বেশি হবে। 

এক্সারসাইজ করার পদ্ধতি

এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করার পদ্ধতি অনেক রয়েছে। বিভিন্ন এক্সারসাইজ বিভিন্ন পদ্ধতিতে করতে হয়।এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম কে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
  • অ্যারোবিক ব্যায়াম বা সবাত ব্যায়াম 
  • অ্যানেরোবিক ব্যায়াম বা অবাত ব্যায়াম 
  • নমনীয়তার ব্যায়াম বা ফ্লেক্সিবিলিটি ব্যায়াম বা পেশীটান ব্যায়াম।

অ্যারোবিক ব্যায়াম বা সবাত ব্যায়াম

যে এক্সারসাইজ বা ব্যায়ামের মাধ্যমে হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয় বা শরীর ঘামতে শুরু করে সেটাই হলো অ্যারোবিক ব্যায়াম বা সবাত ব্যায়াম। এই ব্যায়াম করার সময় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় বেশি। দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, অ্যারোবিক নৃত্য, জোরে হাঁটা, জগিং ইত্যাদি অ্যারোবিক ব্যায়ামের অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে অ্যারোবিক ব্যায়াম করা একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে আপনার অবশ্যই করা উচিত। শারীরিক সুস্থতা ও সক্ষমতার উপর নির্ভর করে কেউ এই সময় এর থেকে বেশি বা কম অ্যারোবিক ব্যায়াম করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতি সপ্তাহে ৩০০ মিনিট অ্যারোবিক ব্যায়াম করা একজন সুস্থ মানুষের জন্য যথেষ্ট।

অ্যারোবিক ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীর থেকে এন্ডোরফিন নামক এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হবে। যার ফলে আপনি যদি বিষন্নতা বা ডিপ্রেশনে ভোগেন সেটা থেকে মুক্তি পাবেন।অ্যারোবিক ব্যায়াম করার ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়াই হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, শরীরের লম্বা বা দীর্ঘ মাংসপেশী গুলো শক্তিশালী হয়।

যেকোনো অ্যারোবিক ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই আপনি ওয়ার্মআপ করে নিবেন। যারা হৃদরোগ বা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তারা এই ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। কিছু অ্যারোবিক ব্যায়াম আছে যা বাড়িতেও করা যায় যেমনঃ

দড়ি লাফঃ

  • দড়ি লাফ দেখতে খুব সোজা কিন্তু এটি উচ্চমাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম।
  • ২০০ ক্যালোরি খরচ করার জন্য আপনাকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে এই ব্যায়াম করতে হবে।
  • এটিও আপনি ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত করতে পারেন।

জগিং জাম্পঃ

  • আপনি দুই পা ফাঁকা করে সোজা হয়ে দাঁড়ান।
  • এরপর আপনার দুই হাত উপরে তুলে লাফ দিন।
  • জগিং জাম্প ১০ থেকে ৩০ মিনিট করতে পারেন।

অ্যানেরোবিক ব্যায়াম বা অবাত ব্যায়াম

অ্যানেরোবিক ব্যায়াম বা অবাত ব্যায়ামে সাধারণত অক্সিজেন ব্যবহার না করে শরীরের গ্লুকোজ কে ভেঙে ফেলে। অ্যানেরোবিক অর্থই হচ্ছে অক্সিজেন ছাড়া। অ্যানেরোবিক ব্যায়াম বা অবাত ব্যায়াম সাধারণত অ্যারোবিক ব্যায়াম এর তুলনায় কম সময়ের কিন্তু বেশি পরিশ্রমের হয়। অ্যানেরোবিক ব্যায়াম বা অবাত ব্যায়াম অনেক রকমের হয়। যেমনঃ
  • পুশ আপ
  • মাসল বা পেশী বৃদ্ধির জন্য এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম।
  • পুলআপ
  • বাইসেপ কার্লস
  • স্প্রিন্টিং
  • ভার উত্তোলন
  • শরীরের যেকোনো অঙ্গের শক্তি বৃদ্ধি কারক ব্যায়াম। এই ব্যায়াম গুলোই সাধারণত অ্যানেরোবিক ব্যায়াম বা অবাত ব্যায়ামের অংশ। এই ব্যায়ামগুলো সাধারণত জিমে বা ট্রেনিং সেন্টারে বেশিরভাগ করা হয়। অ্যানেরোবিক ব্যায়াম বা অবাত ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীরের শক্তি বৃদ্ধি হবে, মাংসপেশি গঠন ও হাড়ের সবলতা বৃদ্ধি করবে।
অ্যানেরোবিক এক্সারসাইজ করার পদ্ধতি অনুযায়ী নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এতে বিভিন্ন দিক থেকে উপকার পাবেন।

নমনীয়তার ব্যায়াম বা ফ্লেক্সিবিলিটি ব্যায়াম বা পেশীটান ব্যায়াম

মাংসপেশী প্রসারণ ও মাংস পেশী বৃদ্ধি করতে নমনীয়তার ব্যায়াম বা ফ্লেক্সিবিলিটি ব্যায়াম বা পেশীটান ব্যায়াম করা জরুরী। নমনীয়তার ব্যায়াম করার ফলে শরীরে আঘাত পাওয়া বা ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। শরীরের নমনীয়তার জন্য যোগব্যায়াম করা আবশ্যক। যোগব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পাবে।

নমনীয়তা বৃদ্ধির ফলে আপনার শরীরের যেসব জয়েন্ট রয়েছে সেগুলোতে চাপ কম পড়ে। এছাড়াও নমনীয়তার ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীরে রক্ত প্রবাহ বাড়াবে এবং শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করবে।

নমনীয়তার ব্যায়াম করার ফলে আপনার মেজাজ নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির স্তরকে উন্নত করতে সহায়তা করবে। এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় এ নমনীয়তার ব্যায়ামগুলো করুন তাহলে আপনি এক্সারসাইজের উপকারিতা ভালো পাবেন।

ব্যায়ামের বা এক্সারসাইজের উপকারিতা

এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় এ এবং এক্সারসাইজ করার নিয়ম অনুযায়ী যদি আপনি শরীরচর্চা করেন তাহলে এক্সারসাইজের উপকারিতা শতভাগ পাবেন। আমাদের মানব শরীরের জন্য ব্যায়াম বা এক্সারসাইজের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। এক্সারসাইজ করার ফলে আপনার যেসব উপকার হবে সেগুলো হলোঃ
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
  • মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাবেন।
  • আপনি যদি ডায়াবেটিসে ভোগেন তাহলে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
  • আপনার মন ধীরস্থির হবে।
  • শরীর ও মন সতেজ ও ফুরফুরে থাকবে যার ফলে যে কোন কাজে ফোকাস করার সহজ হবে।
  • ক্ষুধা বাড়ে ফলে খাবারের অনিয়ম দূর হবে।
  • ঘুম ভালো হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পাবে।
  • স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
  • শরীরকে শক্তিশালী করবে।
  • হৃদরোগীরা নিয়মিত বায়ামের ফলে মোটামুটি সুস্থ থাকবেন। এক্সারসাইজের উপকারিতা শতভাগ পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় এবং এক্সারসাইজ করার নিয়ম এর দিক খেয়াল রাখতে হবে। 

এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করা সম্পর্কে কিছু সাধারণ প্রশ্নের সমাধান (FAQ)

উপরে আপনারা এক্সারসাইজ করার সঠিক সময়, এক্সারসাইজ করার নিয়ম এবং এক্সারসাইজের উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছেন। নিম্নলিখিত কিছু প্রশ্ন আপনাদের মনে আসতে পারে এইজন্য এগুলো সংক্ষিপ্তভাবে সমাধানের চেষ্টা করলাম।

প্রতিদিন কত ঘন্টা ব্যায়াম করা উচিত?

প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে শরীরচর্চা করা ভালো এইরকম অনেকেরই ধারণা রয়েছে। স্বাস্থ্যভেদে শরীরচর্চা করার সময় একেকজনের একেক রকম হয়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে একজন ব্যক্তি পুরো সপ্তাহ মিলে ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করলেই যথেষ্ট।

ব্যায়াম করার কতক্ষন পর জল বা পানি খাওয়া উচিত?

এক্সারসাইজ করার সময় আমাদের শরীর থেকে অনেক ঘাম বের হয়। এজন্য আমাদের শরীরে অনেক জলের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও এক্সারসাইজ করার সময় আমাদের অনেক তৃষ্ণা পায়। কিন্তু ভুলেও এই সময় বেশি জল পান করা যাবে না। এই সময় বেশি পরিমাণ জল পান করলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রার উপর প্রভাব পড়বে।

যার ফলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এইজন্য এক্সারসাইজ করার প্রায় ২০-২৫ মিনিট পর বেশি করে জলপান করতে হবে। এক্সারসাইজ করার সময় যদি অনেক তৃষ্ণা লাগে সেইক্ষেত্রে এক চামচ পরিমাণ জল পান করে গলাটা ভিজিয়ে নিবেন।

কখন ব্যায়াম করলে শরীরের ওজন কমে?

এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় এবং এক্সারসাইজ করার নিয়ম অনুযায়ী যেকোন নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত শরীরচর্চা করলেই ওজন কমানো সম্ভব। এর পাশাপাশি খাবার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরের ওজন কমানোর জন্য শরীরচর্চার সবথেকে ভাল সময় হচ্ছে সকাল ৭ টা থেকে ৯ টা। এই সময়ের মধ্যে খালি পেটে শরীর চর্চা করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

কি কি ব্যায়াম করলে শরীর ভালো থাকে?

আপনার স্বাস্থ্য অনুযায়ী কমবেশি যেকোন ব্যায়াম করলেই আপনার শরীর ভালো থাকবে। আপনার স্বাস্থ্য অনুযায়ী যেই শরীরচর্চাই করুন না কেন সেটা নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময়ে করতে হবে। আপনি নিয়মিত সকালে হাঁটাহাঁটি, জগিং ইত্যাদি হালকা শরীরচর্চা করতে পারেন।

রাতে খাওয়ার কতক্ষণ পর ব্যায়াম করা উচিত?

খাবার খাওয়ার সর্বনিম্ন ২ ঘন্টা পর শরীরচর্চা করা উচিত। রাতে খাওয়ার পর ব্যায়াম না করাই ভালো হবে আপনার। এতে আপনার ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

ব্যায়াম করার পর কি খাওয়া উচিত?

ব্যায়ামের সময় যেহেতু অনেক পরিশ্রম করতে হয় এবং অনেক পুষ্টি উপাদান ক্ষয় হওয়ার ফলে শরীরে ঘাটতি পড়ে যায়। এইজন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ঘাটতি পূরণের জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়। ব্যায়াম করার আধা ঘন্টা এর মধ্যে আমাদের পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়।

ব্যায়ামের সময়ে অনেক ঘাম হয় এজন্য বায়ামের পরে অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণে পানি বা স্পোর্টস ড্রিঙ্ক খাবেন। আমাদের শরীরের মাংস বৃদ্ধি বা পেশি তৈরির জন্য মূল উপাদান হচ্ছে প্রোটিন। তাই এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করার পর আপনি প্রোটিনযুক্ত খাবার খাবেন। প্রোটিন যুক্ত খাবারের পাশাপাশি আপনি ভালো চর্বি জাতীয় খাবার খাবেন যা আপনার জয়েন্টের এবং পেশীর ক্ষতি সারাতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও আপনাকে শর্করা বা স্টার্চ জাতীয় খাবার খেতে হবে। আপনি ফল, সবজি মেশানো ডিম ভাজি, শাক, আমন্ড, বাটার খেতে পারেন। যারা ওজন কমানোর জন্য এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করেন তারা বেশি খাবার খেয়ে ফেলবেন না এতে ওজন আরো বেশি হয়ে যাবে।

সকালে কি কি ব্যায়াম করা উচিত?

সকালে ঘুম থেকে উঠে একবারে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো হবে। ঘুম থেকে উঠে বিছানাতেই আপনি চাইলে যোগব্যায়াম শুরু করতে পারেন। এরপর আপনি জগিং বা হাটাহাটি বা জোরে দৌড়াতে পারেন। এতে আপনার হৃদস্পন্দন বাড়বে এবং শরীরের রক্ত চলাচল উন্নত হবে এবং পেশীতে অক্সিজেন প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

পরিশেষে 

এক্সারসাইজের উপকারিতা পেতে হলে আপনি অবশ্যই এক্সারসাইজ করার নিয়ম অনুযায়ী এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় নির্ধারণ করবেন। এক্সারসাইজ করার সঠিক সময় এবং এক্সারসাইজ করার নিয়ম বা এক্সারসাইজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে আপনাদের সাথে উপরে আলোচনা করেছি সেগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করবেন। আজকের আর্টিকেলটি পরে যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মন্তব্য পেশ করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জানবো আমরা ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url