শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় ও কেন হয় এখনি জেনে নিন

শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে অনেকেরই মোটামুটি ধারণা আছে আবার অনেকেই কিছুই জানেন না। আপনারা যারা শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তারা এই আর্টিকেল টি পড়ে খুশকি হওয়ার কারণ, বিভিন্ন পদ্ধতিতে শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়ে যাবেন।
শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায়। জানবো আমরা। janbo amra
শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায়

খুশকি কি 

খুশকি মূলত শুষ্ক ত্বকের ছোট ছোট মৃত কোষ। খুশকি সাধারণত মাথার খুলিতে বেশি দেখা যায় এছাড়াও বাহুমূল, ঊরুসন্ধিসহ শরীরের অন্যান্য জায়গাতেও খুশকি হতে পারে। এই মৃত কোষগুলো মাথার ত্বক থেকে আঁশের মতো উঠে আসে এবং ঝরে পড়ে।

খুশকি হওয়ার কারণ 

খুশকির সঠিক কারণ তেমন কারো জানা নেই তবে জিনগত ও পরিবেশগত এবং প্রভৃতি কারণেও খুশকি হতে পারে। অনেকেরই ধারণা খুশকি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা। কিন্তু এর সাথে কোন সম্পর্কই নেই খুশি হওয়ার। ত্বকের তৈলাক্ত বা ডারমাটাইটিস ও চুলকানিপ্রবণ অবস্থা খুশকি হওয়ার একটি সাধারণ কারণ। মেলাসেজিয়া নামক এক ধরনের ছত্রাক সকল মানুষের মাথার খুলিতেই থাকে।

এই ছত্রাকটি নতুন ত্বক কোষ জন্মাতে সাহায্য করে। তবে মাথার ত্বকে ময়লা জমে তেল চিটচিটে অবস্থা হলে এই মেলাসেজিয়া ছত্রাকটি বিপদে ফেলতে পারে। এ সময় ত্বকের অতিরিক্ত কোষগুলো মারা যায় এবং ঝরে পড়ে। মাথার ত্বক যদি শুষ্ক হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রেও খুশকি দেখা দেয়। খুশকি তৈরিতে সাহায্য করে শুষ্ক ত্বকের ছোট ছোট মৃত কোষগুলো।

শীতে খুশকি বেশি হয় কেন 

খুশকি হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিন্তু শীতকালে মানুষের খুশকি অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়। শীতে খুশকি বেশি হয় কারণ এই সময় বাতাসে আর্দ্রতা অনেক কম থাকে। শীতে নতুন চামড়া তৈরি হয় পুরোনো চামড়া উঠে এবং শুষ্কতার কারণে চামড়া গুলো শুকিয়ে যায়।

এসব শুষ্ক মৃত কোষ গুলোকেই আমরা খুশকি হিসেবে জানি। শীতে খুসকি বেশি হওয়ার আরেকটি সাধারণ কারণ হলো জল কম পান করা। জল কম পান করার ফলে শরীরের ত্বক বা মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এর ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতে খুশকি বেশি হয়।

শীতকালে জল ঠান্ডা হওয়ার জন্য অনেকেই শ্যাম্পু করার পর চুলের শ্যাম্পু গুলো ভালো করে ধুয়ে নেন না। এই কারনেও খুশকি বেশি হয়। এছাড়াও অনেকে ঠান্ডার জন্য গরম জল দিয়ে স্নান করেন এর ফলেও খুশকির সমস্যা বেশি হয়।

খুশকি চুলের কি ক্ষতি করে 

খুশকির ফলে চুল পড়া বা চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ক্ষতি হয়ে থাকে। চলুন দেখে নেই খুশকির ফলে চুলের কি ক্ষতি হয়।
  • বিরক্তিকর মৃত কোষঃ খুশকির ফলে মাথার ত্বকের মৃত কোষগুলো ঝরতে শুরু করে। এই মৃত কোষগুলো কাঁধে, চুলে, পোশাকে দৃশ্যমান হয়ে থাকে। যার ফলে অনেক জায়গাতেই নিজেকে দ্বিধাগ্রস্থ ও ছোট হতে হয়।
  • শুষ্ক চুলঃ খুশকির ফলে চুল শুষ্ক বা রুক্ষ হয়ে যায়। এর ফলে চুল অগোছালো হয়ে থাকে যা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  • লাল ভাবঃ খুশকি বেশি হয়ে গেলে চুল লাল হয়ে যায়। এছাড়াও মাথার ত্বকে লাল ভাব দেখা দেয় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে।
  • চুলকানিঃ অতিরিক্ত খুশকির কারণে চুলকানি শুরু হয় যা অস্বস্তির কারণ হয়। অতিরিক্ত চুলকানোর ফলে মাথার ত্বকে গুরুতর প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
  • চুল ভেঙ্গে যাওয়াঃ খুশকির ফলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে যখন চুল আঁচড়ানো হয় তখন চুল ভেঙ্গে পড়ে।
  • চুলে দুর্গন্ধঃ অতিরিক্ত খুশকির ফলে মাথার ত্বকে সংক্রমণ হয়। এর ফলে চুল থেকে দুর্গন্ধ আসে।
  • মাথার ত্বকে জ্বালাঃ খুশকির ফলে মাথার ত্বকে জ্বালাযন্ত্রণা হয় এবং ক্ষত সৃষ্টি করে। যা চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়। 
  • হতাশাগ্রস্ত চেহারাঃ অতিরিক্ত খুশকির ফলে চুলের স্বাস্থ্যজ্জল নষ্ট হয়ে যায়। যা আপনার চেহারাকে হতাশাগ্রস্থ করে তোলে। 
  • চুল পড়াঃ খুশকি যদিও চুল পড়া্র সরাসরি কারণ হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত খুশকির জন্য চুলে বারবার আঁচড় দেওয়ার ফলে চুলকে দুর্বল করে ফেলে। যার ফলে চুল ভেঙ্গে যায় এবং চুল পড়া শুরু করে। 
এই শীতে মাথার খুশকি দূর করা না হলে উপরোক্ত সমস্যাগুলি দেখা দিবে। এজন্য শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায়গুলো ভালোভাবে জেনে রাখুন 

শীতে খুশকি দূর করার ঘরোয়া সমাধান 

শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় বলতে গেলে অনেকগুলো রয়েছে। শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে, বিভিন্ন ভেষজের মাধ্যমে, বিভিন্ন তেলের মাধ্যমে, ডাক্তারের শরণাপন্ন ইত্যাদি মাধ্যমে মাথার খুশকি দূর করা সম্ভব। তাহলে চলুন শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

চুলের খুশকি দূর করতে নিম পাতার ব্যবহার 

নিম পাতার ব্যবহারে শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় খুবই সোজা।
  • নিম পাতার জলঃ এক লিটার খানেক জল ফুটিয়ে নিন এবং চুলা বন্ধ করে দিন। এরপর ফুটন্ত জলে ৩০ থেকে ৪০টি নিম পাতা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই ভিজিয়ে রাখা জল দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে নিবেন। এই জল ব্যবহার এর ফলে খুশকি থেকে মুক্তি পাবেন।
  • নারকেল তেল ও নিম তেলঃ ১/৪ কাপ নিমের তেল এবং হালকা গরম ১ কাপ নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিবেন। এরপর এই তেল আপনার চুলের গোড়ায় বা মাথায় আস্তে আস্তে ভালো করে মাসাজ করে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিবেন। সকাল বেলার দিকে চুলে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলবেন সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই তেলটি ব্যবহার করবেন। 
  • নিমের পাতা, মেথি ও টক দইয়ের তৈরি পেস্টঃ নিম পাতা যেমন ছত্রাকনাশক ঠিক তেমনি মেথির মধ্যেও ছত্রাকনাশক বা খুশকি দূর করার গুণ রয়েছে। ২ টেবিল চামচ মেথি আড়াই থেকে তিন ঘন্টার জন্য জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর এতে ৩০ থেকে ৪০টি নিমের পাতা ও হালকা জল নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে। এরপর ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১/২ কাপ দই ঐ পেস্ট এর সাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। চুলে তেল দিয়ে সাথে এই পেস্ট লাগিয়ে এক ঘন্টার মত অপেক্ষা করুন এরপর চুল ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার এ পেস্ট ব্যবহার করুন। 
নিমপাতায় আন্টিফাঙ্গাল গুণ থাকায় খুশকি তাড়াতে এটি খুবই কার্যকর। শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে উপরোক্ত নিয়মে নিম পাতার ব্যবহার করতে পারেন। এই পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করার পাশাপাশি আপনার মাথার ত্বক অবশ্যই সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

খুশকি দূর করতে ম্যাজিকের মত কাজ করে ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে দারুন কাজ করে। সঠিক পদ্ধতিতে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করলে খুশকি দূর করা খুবই সহজ। চলুন দেখে নেওয়া যাক ক্যাস্টর অয়েলের সঠিক ব্যবহার এবং ক্যাস্টর অয়েলের মাধ্যমে শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায়।
  • ক্যাস্টর অয়েলের সাথে অন্য তেলঃ চটচটে প্রকৃতির হওয়ায় ক্যাস্টর অয়েল শুধুমাত্র চুলে না দিয়ে এর সঙ্গে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে দিন। দুই চামচ নারিকেল তেল, দুই চামচ ক্যাস্টর অয়েল ও ২ চামচ অলিভ অয়েল ভালো করে মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে ভালোভাবে মাসাজ করে লাগাবেন। রাতে মাথায় তেল দিয়ে সারারাত রেখে দিবেন এবং সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করবেন এতে আপনার চুলের খুশকি তো যাবেই তাছাড়াও চুল সফট ও মজবুত হবে।
  • ক্যাস্টর অয়েল, ডিম ও নারকেল তেলঃ ডিম ১টি, নারকেল তেল ১ টেবিল চামচ ও ক্যাস্টর অয়েল ১ টেবিল চামচ ভালো করে মিশিয়ে নিবেন। এরপর এটি চুলে ভালো করে মাখিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিবেন তারপর শ্যাম্পু করে ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে ১বার করে ব্যবহার করবেন। 
  • ক্যাস্টর অয়েল,অলিভ অয়েল ও আদার রসঃ আদার রস, অলিভ অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল ২ টেবিল চামচ নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মাথার স্কাল্পে ৩০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। তারপর ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করবেন। 
ক্যাস্টর অয়েলের ব্যবহার শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে সেরা মাধ্যম।

অ্যালোভেরা দিয়ে খুশকি দূর করার উপায়

অ্যালোভেরা চুলে ব্যবহারের মাধ্যমে এই শীতে মাথার খুশকি দূর হবে, সাথে চুল হবে ঝলমলে। অ্যালোভেরা জেল, অ্যালোভেরার রস আরো অনেকভাবেই অ্যালোভেরা দিয়ে শীতে মাথার খুসকি দূর করার উপায় সম্পর্কে এখন জানব। 
  • অ্যালোভেরা জেলঃ অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিকভাবেই চুলকে করে পরিষ্কার। অ্যালোভেরা থেকে জেল সংগ্রহ করে সরাসরি আপনার মাথায় এবং চুলে ভালো করে লাগিয়ে দিন। ভালো করে এই জেলটি শুকিয়ে যেতে দিন। এরপর শ্যাম্পু ব্যবহার না করেই মাথা এবং চুল ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • অ্যালোভেরার রসঃ নিয়মিত প্রতি সপ্তাহের দুইবার করে অ্যালোভেরা রস দিয়ে আপনার চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন। আপনি চাইলে প্রথমত মাথায় শ্যাম্পু করে এরপর চুল এবং মাথার ত্বকে ভালো করে অ্যালোভেরার রস লাগাতে পারেন। লাগানোর পর সুতির কাপড় দিয়ে ১৫ মিনিট মাথা জড়িয়ে রাখুন। এরপর আপনার চুল শুকিয়ে নিবেন। 
  • অ্যালোভেরা ও ডিমের হেয়ার প্যাকঃ একটি ডিমের সাদা অংশ এবং অ্যালোভেরা জেল ৩ চামচ খানেক ভালো করে মিশিয়ে নিবেন। নিয়মিত এই হেয়ার প্যাকটি আপনার চুলে ব্যবহার করবেন। এতে চুলের খুশকি দূর হওয়ার পাশাপাশি চুল হবে অনেক স্বাস্থ্যজ্জল ও মজবুত।
  • অ্যালোভেরা ও কর্পূরঃ কর্পূর মাথার খুশকি দূর করার পাশাপাশি মাথার ত্বককে ঠান্ডা রাখে। ৩ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা রসের সাথে ১/২ চা চামচ কর্পূর ভালো করে মিশিয়ে নেবেন। এরপর এই মিশ্রণটি ভালো করে মাথার ত্বকে মেশাবেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে ফেলবেন 
উপরোক্ত নিয়মে অ্যালোভেরার ব্যবহারে এই শীতে মাথার খুশকি দূর করা অনেক সহজ হবে।

চুলের খুশকি দূর করুন লবণ পানি দিয়েই 

শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে লবণ পানি অনেকটাই কার্যকর। শীতে মাথার ত্বক শুষ্ক হাওয়ায় এই সময় খুশকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। লবণ পানি ব্যবহারে মাথার ত্বকের খুশকি বা ম্যালাসেজিয়ার বৃদ্ধি কমতে থাকে। লবণ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে লোমকূপ উন্মুক্ত হয়ে থাকে এবং মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ও মাথার ত্বকের বাড়তি তেল কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার প্রক্রিয়াঃ এক চিমটি লবণ আপনার মাথার ত্বকে ভালো করে ছিটিয়ে দিন। এরপর আপনার হাতের আঙ্গুলগুলো পানিতে ভিজিয়ে মাথার ত্বকে ৬ থেকে ৭ মিনিট মালিশ করুন। সম্পূর্ণ চুলে লবণ না লাগাই ভালো। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে আপনার মাথার চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। মাসে দুইবার অর্থাৎ ১৫ দিন পর পর ব্যবহারে এর ভালো ফলাফল পাবেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ দীর্ঘ সময় ধরে মাথার ত্বকে রাখবেন না কারণ এটি কোন চিকিৎসা না।

খুশকি দূর করবে লেবু 

শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে লেবুর ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন উপায়ে চুলে লেবু ব্যবহার করা যায়।
  • লেবুর রস ও অ্যালোভেরাঃ ২ টেবিল চামচ পরিমাণ লেবুর রস ও অ্যালোভেরা জেল এক সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় ভালো করে ঘষে ঘসে লাগাবেন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে নিবেন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে দুইবার করে ব্যবহার করুন। 
  • লেবু ও আমলকিঃ দুই টেবিল চামচ পরিমাণ লেবুর রস ও আমলকির রস ভালো করে মিশিয়ে নিন। এ রসের মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় প্রায় ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। 
  • লেবু ও মধুঃ ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ৪ টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে অল্প পরিমাণ পানি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আপনার চুলের গোড়ায় দশ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে নিবেন। নিয়মিত ব্যাবহারে এই শীতে মাথার খুশকি দূর হবে।
  • লেবু, মধু ও টক দইঃ ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ লেবু এর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ টক দই ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটা নিয়মিত ব্যাবহারে আপনার চুলের খুশকি দূর হবে এবং চুল মসৃণ, সুন্দর ও ঝলমলে হবে।
উপরোক্ত পদ্ধতিতে লেবু ব্যবহারে এই শীতে মাথার খুশকি দূর করা আপনার জন্য কোন ব্যাপারই না। 

শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে  কিছু সাধারণ প্রশ্নের সমাধান (FAQ)

আপনাদের মনে "শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায়" সম্পর্কে আরো কিছু প্রশ্ন জাগতে পারে। সেগুলোর মধ্যে কিছু প্রশ্নের সমাধান সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তেল দিলে কি খুশকি বাড়ে? 

তেল চুলের জন্য অনেক উপকারী। কিন্তু যাদের খুশকি সমস্যা আছে তারা নিয়মিত যদি সাধারণ তেল ব্যবহার করেন তাহলে খুশকি বারবেই। চুলে তেল দিলে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং চুলের গোড়া মজবুত হয় এছাড়াও চুল সুন্দর হয়। এইজন্য আমাদের মাথায় অবশ্যই তেল দিতে হবে।

তবে তেলের সঙ্গে কিছু খুশকি বিরোধী উপাদান যোগ করে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন চুলে তেল দিন এবং তেল দেওয়া অবস্থায় বাইরে ধুলাবালির মধ্যে যাবেন না।এইভাবে কিছু নিয়ম মেনে চুলে তেল দিন তাহলে খুশকি বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

খুশকি ভালো নাকি খারাপ? 

খুশকি মূলত এক ধরনের চর্মরোগ যা মাথার ত্বক বা শরীরের অন্যান্য জায়গাতেও হয়ে থাকে। প্রতিটা মানুষই কোনো এক সময়ে খুশকিতে আক্রান্ত হয়। খুশকির প্রভাবে মাথায় চুলকানি এবং নিয়মিত চুল পড়ে। একবার খুশকি হলে তা অবশ্যই বিভিন্ন মাধ্যমে সারাতে হবে বা চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করতে হবে। শীতে মাথার খুসকি দূর করার উপায় গুলো উপরে বিস্তারিত দেওয়া আছে সেগুলো দেখে নিতে পারেন।

পরিশেষেঃ শীতে মাথার খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য


খুশকি কোন গুরুতর রোগ নয়। তবে খুশকি কে আপনি কখনো অবহেলাও করবেন না। অতিরিক্ত খুশকি হওয়ার ফলে আপনার মাথার চুল রুক্ষ হয়ে যাবে এবং চুল পড়া শুরু করবে। এজন্য খুশকি থেকে বাঁচতে নিয়মিত মাথার ত্বক ও চুলের যত্ন নিন। খুশকি গুরুতর অবস্থা ধারণ করলে সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জানবো আমরা ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url