ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান | ই-কমার্স বিজনেসের A টু Z গাইডলাইন

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার আগে আমাদের ই-কমার্স বিজনেস সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে। ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান সঠিকভাবে করতে পারলে আমরা ই-কমার্স বিজনেস এ সফল হবো। আপনি ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার আগে নিচের বিষয়গুলো ভালো করে জেনে নিন।
ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান ।ই-কমার্স বিজনেসের A টু Z গাইডলাইন। জানবো আমরা। janbo amra
ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান। ই-কমার্স বিজনেসের A টু Z গাইডলাইন। 

সূচিপত্রঃ ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান | ই-কমার্স বিজনেসের A টু Z গাইডলাইন 

ভূমিকাঃ
অনেকদিন থেকে ভাবছেন ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন। আবার অনেকের শো-রুম কিংবা দোকান আছে সেটাকে অনলাইনে নিয়ে এসে ই-কমার্স ব্যবসায় রূপান্তর করতে চাচ্ছেন।

হাল আমলে অনেকে ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপকেন্দ্রিক অনলাইন বিজনেস করছেন কিন্তু সেটাকে প্রফেশনাল বিজনেসে রূপান্তর করতে চাচ্ছেন? কিভাবে প্রফেশনাল লেভেলে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করা যায় কিংবা বর্তমান বিজনেসকে কিভাবে ই-কমার্সে রূপান্তর করা যায় সেগুলো সম্পর্কে আজকে জানবো।

ই-কমার্স ব্যবসা কি?

ই-কমার্স শব্দের অর্থ হলো ইন্টারনেট কমার্স বা ইলেকট্রনিক কমার্স। অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে কোন পণ্য কেনাবেচার প্রক্রিয়াটিই হলো ই-কমার্স বিজনেস। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কমার্শিয়াল ট্রানজেকশন ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হলেও তাকে ই-কমার্স বিজনেস হিসেবে ধরা হয়।

 অর্থাৎ অনলাইন বা  ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেসব ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করা হয় সেসব ব্যবসাগুলোকেই বলা হয় ই-কমার্স ব্যবসা। 

ই-কমার্স বিজনেসের প্রকারভেদ

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান সঠিকভাবে করার জন্য আমাদের এর প্রকারভেদ সম্পর্কে জানতে হবে। ই-কমার্স বিজনেসকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয় যথাঃ

  • B2B (business to business )
  • B2C (business to consumer) 
  • C2C (consumer to consumer) 
  • C2B (consumer to business) 
business to business:

b2b বা business to business এ সাধারণত দুটো বিজনেস এর মধ্যে অনলাইনে কেনাকাটা হয়ে থাকে। ধরুন আপনার একটি কোম্পানি আছে, আপনার কোম্পানিতে প্রোডাক্ট আপনি নিজে তৈরি না করে কোন একটা বিজনেস প্রতিষ্ঠান থেকে কিনে নেন তারপর সেগুলি sell করেন। 

এই বিজনেস প্রক্রিয়াটি কেই b2b বা business to business বলা হয়। b2b বিজনেসের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন IndiaMAR, Trade India, Alibaba ইত্যাদি।

business to consumer:

এই বিজনেসে সাধারণত বিজনেস প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক বা কাস্টমারের সাথে লেনদেন প্রক্রিয়া হয়ে থাকে। অর্থাৎ একটি business প্রতিষ্ঠান সরাসরি consumer বা গ্রাহকদের কাছে প্রোডাক্ট বিক্রি করে। ই কমার্স বিজনেস এর মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় মাধ্যম এটি। এই প্রক্রিয়াতে যেসব প্রতিষ্ঠান বিজনেস করে থাকে সেগুলো হল flipkart, amazon ইত্যাদি।

consumer to consumer:

এই বিজনেস প্রক্রিয়াটি সাধারণত দুটি consumer বা উপভোক্তার মধ্যে হয়ে থাকে। এই মাধ্যমে দুজন উপভোক্তা বা consumer অনলাইনে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পরস্পরের মধ্যে কেনাবেচা করে থাকেন। যেমন eBay, QUIKR বা OLX ইত্যাদি।

consumer to business:

এই বিজনেস প্রক্রিয়াটিতে সাধারণত consumer রা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বা সার্ভিস গুলোকে বিজনেস কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়ে থাকেন এবং কোম্পানিগুলো consumer দের কাছ থেকে সেগুলো কিনে টাকা দেন। 

যেমনঃ online product promotion, social media promotion ইত্যাদি বিজনেস কোম্পানিগুলো consumer দের কাছে টাকা দিয়ে সার্ভিস কিনেন।

কি নিয়ে ব্যবসা করবেন সেটা বাছাই করুন

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার সময় আগে আপনি কি পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন সেটা নির্ধারণ করুন। কারন, এলোমেলোভাবে মার্কেটে নেমে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্ট হয়ে যাবে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সে সবকিছু নিয়ে ব্যবসা করবে কিন্তু সব কিছু নিয়ে ব্যবসা শুরু করার মত নতুন একজন উদ্যোক্তা হয়ে শুরুতে সেটা পারবেন না।

কারণ, সক্ষমতা, বাজেট, জনবল কিংবা অভিজ্ঞতা আপনার সেই লেভেলে নেই। আপনি যদি শুরুতেই ভাবেন হাজার হাজার কোটি টাকার কোম্পানি অ্যামাজন, আলিবাবার মতো শুরু করবেন তাহলে পিছিয়ে পড়বেন।

কারণ, অ্যামাজন, আলিবাবা প্রথম দিন থেকে এই জায়গায় আসেনি, ধাপে ধাপে এসেছে। এজন্য আপনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত একদিন তাদের মত হয়ে ওঠা। সুতরাং আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার সময় বিভিন্ন বিষয় এর দিক ভেবেচিন্তে পণ্য শণাক্ত করুন।

পণ্যের সোর্স খুঁজুন

প্রথম ধাপে আপনি যখন কি ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন সেটা বাছাইয়ের পর ওই পণ্যের সোর্স খুঁজে বের করুন। উদাহরণ হিসেবে ধরুন আপনি গেজেট আইটেম নিয়ে কাজ করবেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন আপনাকে খুঁজতে হবে গেজেট আইটেম আপনি হোলসেলে কোথায় পাবেন, কারা বাংলাদেশে গেজেট আইটেমগুলো ইমপোর্ট করে থাকে।

তাদেরকে খুঁজে বের করুন। প্রথম ধাপে এমন পণ্য সিলেক্ট করবেন না, যেটা আসলে আপনি সোর্স করতে পারবেন না কিংবা আপনার জনবল অনুযায়ী সংগ্রহ করতে পারবেন না। যেমন, অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় সে একা একজন ব্যক্তি অনলাইনে গ্রোসারি আইটেম কিংবা শাক-সবজি বিক্রি করবে।

যার জন্য বিশাল লজিস্টিক টিম থেকে শুরু করে ফাস্ট ডেলিভারি এবং শক্তিশালী সোর্স দরকার, যেটা একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য অনেক বেশী চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আপনার যদি বড় বাজেট কিংবা জনবল থাকে তাহলে করতে পারেন। অর্থাৎ ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার সময় পণ্যের সোর্স ঠিক করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম বাছাই করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিক করে নিন ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার সময়। প্রথম দুই ধাপ সম্পন্ন করার পর ব্যবসার নাম নির্ধারণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ই-কমার্স বিজনেসে অন্যতম এবং প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কোম্পানি নাম বা ডোমেইন নাম নির্ধারণ।

কারণ আপনার বিজনেসকে সবাই এই নামেই চিনবে বা আপনার এই ব্র্যান্ড নামই আপনার বিজনেসকে সবার কাছে পরিচিত করে তুলবে। নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার বিজনেস ন্যাচার বা যেই ধরনের পণ্য নিয়ে বিজনেস করবেন সেই ধরনের নাম দেয়ার চেষ্টা করবেন। 

কিংবা আপনার যদি একের অধিক বা ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে সেভাবেই নাম নির্ধারণ করুন।

মার্কেটিং পরিকল্পনা

উপরের তিনটি ধাপের পর আপনার যেটা নিয়ে ভাবতে হবে সেটা হচ্ছে বিজনেসের মার্কেটিং পরিকল্পনা। ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার সময় মার্কেটিং পরিকল্পনা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমে কোথায় কোথায় মার্কেটিং করবেন সেটা ঠিক করুন। 

সেই অনুযায়ী সবকিছু ঠিক করুন। নতুন উদ্যোক্তারা যেখানে যেখানে মার্কেটিং করতে পারেন সেটার কিছু পরিকল্পনা দেয়া হলোঃ

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার সময় ফেসবুক পেজ খোলার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আপনার বিজনেস যে নামে হবে সেই নামে শুরুতেই একটি বিজনেস পেজ খুলে ফেলুন ফেসবুকে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ফেসবুক পেজ আপনার বিজনেসের সবচেয়ে বড় মার্কেটিং টুলস হিসেবে কাজ করবে।

অবশ্যই ফেসবুক পেজটিকে সুন্দরভাবে এবং সব ইনফরমেশন দিয়ে সাজাবেন যাতে গ্রাহকের কাছে আপনার বিজনেসের কোয়ালিটি বুঝা যায়। বিজনেস পেজ অবশ্যই ভেলিড ইনফরমেশন দিয়ে বানাবেন। বিজনেস পূর্ণভাবে শুরু করার আগে ফেসবুক পেজে আপনি যেসব পণ্য নিয়ে কাজ করবেন তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিতে পারেন।

ফেসবুক গ্রুপ খুলুন প্রতিষ্ঠানের নামে

ফেসবুকে মার্কেটিংয়ের আরেকটি বড় জায়গা ফেসবুক গ্রুপ। ফেসবুক গ্রুপে যত পারেন রিলেটেড মেম্বারদের অ্যাড করুন এবং গ্রুপের সাইজ বড় করুন। আপনার বিজনেসের জন্য এটাও একটি লাভজনক টুলস হয়ে দাঁড়াবে।

পণ্যের রিভিউ ইউটিউবে

বর্তমানে বাংলাদেশের যারা ই-কমার্স ব্যবসা করে তাদের বেশিরভাগই শুধু ফেসবুককেন্দ্রিক মার্কেটিং করে, কিন্তু ইউটিউবে গুরুত্ব দেয় না। অথচ ইউটিউব হতে পারে আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এ সেলস বাড়ানোর নতুন মেশিন।

আপনার পণ্যের উপর আপনি নিজেই রিভিউ করে সেটা সঠিকভাবে ইউটিউবে পাবলিশ করে রাখুন, দেখবেন ক্রমান্বয়ে আপনার youtube চ্যানেল আপনার বিজনেসের জন্য বিশাল বড় ব্র্যান্ডিং এবং প্রচার নিয়ে আসবে।

ইউটিউবে পণ্যের রিভিউ দেখে অনেকে পণ্য কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে, তাই রিভিউ বানিয়ে সেখানে আপনার ওয়েবসাইট লিংক কিংবা ঠিকানা দিয়ে রাখতে পারেন। অর্থাৎ আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এ ইউটিউবে পণ্যের রিভিউ টি অন্তর্ভুক্ত করে নিন।

গুগলের বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বাংলাদেশে হাতেগোনা প্রতিষ্ঠিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ছাড়া তেমন কেউ গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে না। তাই এটা হতে পারে কম খরচে বিজ্ঞাপনের দারুন হাতিয়ার। অর্থাৎ আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এ গুগলের বিজ্ঞাপনটি অন্তর্ভুক্ত করে নিন।

আপনার বিজনেসকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে পরিচিত করা

আপনার বিজনেসকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে পরিচিত করতে হলে অবশ্যই ভালো মানের ওয়েবসাইট লাগবে। আপনার বিজনেসের ওয়েবসাইটকে এসইও ফ্রেন্ডলি করলে সহজে পেতে পারেন ফ্রি ফ্রি কাস্টমার।

ভালো মানের ওয়েবসাইট

আপনি যদি ভেবে থাকেন আপনি দীর্ঘ মেয়াদে বিজনেস করতে চাচ্ছেন এবং অবশ্যই প্রফেশনাল লেভেলে, সেই ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট বানানো এবং সেই ওয়েবসাইটকে কেন্দ্র করে আপনার বিজনেসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

অনেকে বর্তমানে শুধু ফেসবুক পেজ খুলে বিজনেস করে থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য ওয়েবসাইট বানিয়ে সেটার মাধ্যমে পুরো বিজনেসকে নিয়ে এলে বিজনেসের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়বে। বিজনেসের হিসাব-নিকাশ ঠিক থাকবে। আপনার বিজনেসকে গ্রাহকের কাছে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

তাছাড়া ওয়েবসাইট সাজানো থাকলে এবং ওয়েবসাইট গ্রাহকের কাছে পরিচিত পেলে আপনার রেগুলার অর্ডার পড়তে থাকবে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ছাড়াই। ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান টি সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য একটি ওয়েবসাইট অবশ্যই প্রয়োজন

ডেলিভারি ব্যবস্থা ঠিক করে নেওয়া

যেহেতু আপনার বিজনেস অনলাইনে এবং পণ্য কাস্টমারের দোরগোড়ায় দিয়ে আসতে হবে, তাই সেই ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে ডেলিভারি ব্যবস্থার ওপর। ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এ ডেলিভারি ব্যবস্থা নিয়ে আপনাকে আলাদাভাবে ভাবতে হবে।

সবার শুরুতে ডেলিভারি চার্জ নির্ধারণ করুন এবং কোন কোন কুরিয়ার ব্যবহার করে ডেলিভারি করবেন তাদের অবস্থা আগে থেকেই দেখে নিন।বর্তমানে ঢাকা-কেন্দ্রিক অনেকগুলো কুরিয়ার কোম্পানি হয়েছে যাদের সাথে কাজ করলে শুরুর দিকে আপনি ডেলিভারির ব্যাবস্থা নিয়ে কিছুটা ঝামেলামুক্ত থাকবেন।

কারণ শুরুতে ডেলিভারি ব্যবস্থায় টাকা বিনিয়োগ না করে আপনি থার্ড পার্টি কুরিয়ারগুলো ব্যবহার করলে সেটা আপনার জন্য আর্থিকভাবে উত্তম হবে। ঢাকার ভেতরে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় পণ্য ডেলিভারি করে থাকে বেশ কিছু কোম্পানি।

যেহেতু আপনার বেশিরভাগ পণ্য ক্যাশ অন ডেলিভারিতে যাবে এবং টাকা কুরিয়ার মাধ্যমেই আপনার হাতে আসবে তাই প্রফেশনাল কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর সাথে কাজ করবেন। আপনার বিজনেসের সুনাম পণ্যের কোয়ালিটি এবং দ্রুত ডেলিভারির উপর অনেকটা নির্ভর করে। তাই ডেলিভারি ব্যবস্থায় কোনো হেরফের করবেন না।

ঢাকা সহ অন্যান্য জেলা শহরগুলোতে বেশ কিছু কুরিয়ার ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পৌঁছে দিয়ে থাকে। পণ্য আপনার অফিস বা বাসা থেকে তারা পিক করে নিয়ে থাকে। এই ধরনের কয়েকটি কুরিয়ার হচ্ছে, পাঠাও কুরিয়ার,ই- কুরিয়ার, রেডেক্স, ডাকেক্স।

এছাড়া আরও যে সকল কুরিয়ারের ব্রাঞ্চে পণ্য দিয়ে এলে ডেলিভারি করে থাকে তারা হচ্ছে, এসএ পরিবহন, সুন্দরবন, জননী কুরিয়ার সার্ভিস। উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ঠিকঠাক ভাবে জেনে আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান টি সাজিয়ে নিন। 

ফেসবুকে কিভাবে বিজ্ঞাপন দিবেন

অনেকে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার পর কিভাবে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেবে সেটা না জানার কারণে বিভিন্ন এজেন্সির কাছে যায়। যেখানে অতি উচ্চমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এ ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পদ্ধতিটা অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত রাখবেন।

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়ার সহজ উপায় হচ্ছে আপনার একটি মাস্টার কার্ড বা ভিসা কার্ড থাকলেই হবে। অনেকে হয়তো মাস্টার কার্ড কিংবা ভিসা কার্ড প্রাপ্তি ঝামেলাপূর্ণ্য মনে করেন তাদের জন্যও আছে সহজ সমাধান। বাংলাদেশের কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক ব্যালেন্স ছাড়াই মাস্টার কার্ড কিংবা ভিসা কার্ড দিয়ে থাকে ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)।

সে ক্ষেত্রে শুধু আপনার ভোটার আইডি কার্ড বা পাসপোর্টের ফটোকপি দিলেই হবে। উল্লেখ্য যে আপনার কার্ডে ডলার অ্যান্ডোর্স করাতে হবে। অবশ্যই পাসপোর্ট থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার পাসপোর্ট না থাকলে যেকোন নিকট আত্মীয়কে দিয়ে খোলাতে পারেন।

মাস্টারকার্ড কিংবা ভিসা কার্ড পেয়ে গেলে সেখানে টাকা জমা দিলে সমপরিমাণ ডলার জমা করে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত ভালো কাস্টমার পেতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পদ্ধতিটি আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এ যুক্ত করে নিন।

ই-কমার্স বিজনেস এর সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধাঃ

  • ই-কমার্স বিজনেস এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘন্টায় যেকোন সময় ক্রেতারা তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে থাকে। 
  • ই-কমার্স বিজনেস এর মাধ্যমে ক্রেতারা বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে পণ্য কেনাবেচা বা লেনদেন করতে পারে। 
  • ই-কমার্স বিজনেসে তেমন অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হয় না। তাই কেউ সাহস করে চাইলেই ই-কমার্স বিজনেস করতে পারে। আপনিও চাইলেই এখনি ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করে ফেলতে পারেন।
  • ই-কমার্স বিজনেসের মাধ্যমে বিভিন্ন লোকদের চাকরির সুযোগও তৈরি হয়। এক্ষেত্রে কর্মচারীরা বাড়িতে বসেও কাজ করার সুযোগটি পেয়ে থাকে।
সুতরাং ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এক অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা ও সমাজ সুবিধা ভোগ করছে।

অসুবিধাঃ
  • ই-কমার্স বিজনেস এর ক্ষেত্রে সাধারণত নিরাপত্তার ঘাটতি দেখা যায় এজন্য অনেকেই এই ব্যবসায়ে যুক্ত হতে চায় না। 
  • ই-কমার্স বিজনেসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো ক্রেতারা সরাসরি পণ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে না বা পণ্যের বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃত সাধ সম্পর্কে জানতে পারেনা। 
  • ই-কমার্স বিজনেসে অনেক সময়ই পণ্য সময়মতো পৌঁছায় না। এর ফলে ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ে।
  • আমাদের দেশে ই-কমার্স বিজনেস এর আরেকটি সমস্যা হল মানুষের অনাগ্রহ। ইন্টারনেট বা অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা হওয়ায় মানুষ এই ব্যবসা হতে দূরে থাকতে চায়। তবে দিন দিন ই কমার্স  বিজনেসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। 

পরিশেষেঃ ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য

ই-কমার্স বিজনেস কি? এবং এর প্রকারভেদ এছাড়াও ই-কমার্স বিজনেস শুরু কিভাবে করবেন। অর্থাৎ ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান সম্পর্কে A টু Z গাইডলাইন আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি। আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এ যদি এর অসুবিধা গুলো কমিয়ে আনতে পারেন তাহলে আপনি খুব সহজেই সফলতা পাবেন।

আপনার যদি আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। এই আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন মন্তব্য থেকে থাকে তবে নিচে কমেন্ট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জানবো আমরা ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url